রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪

সর্বশেষ

সিঙ্গাপুর নিয়ে আলোচনা সারাদেশে, কি হচ্ছে? 

রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে সিঙ্গাপুর। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার সিঙ্গাপুর যাত্রা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। নানা গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি। পার্টির মহাসচিবের সিঙ্গাপুরের যাওয়ার খবর চাউর হয়েছে। যদিও বিএনপি নেতারা চিকিৎসার জন্যই সিঙ্গাপুরে আছেন বলে তাদের তরফ থেকে বলা হচ্ছে।
এমন সময় তারা দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে গেছেন, দুই দিন পরেই যখন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের মধ্যেই বিএনপি নেতাদের সিঙ্গাপুরে যাত্রার বিষয়ে কথা বলছেন আওয়ামী লীগ নেতারাও। সবশেষ শনিবার সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। চার দিন আগে একই উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সস্ত্রীক সিঙ্গাপুরে যান। দুই মাস ধরে একই দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। চিকিৎসার কথা বলে সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এক দফা আন্দোলন কিছুটা বিরতি দিয়ে তাদের এই বিদেশ গমন নিয়ে নানা মহলে কথা হচ্ছে। জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত শুক্রবার এ সাক্ষাৎ হয় বলে জানা গেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর যান। গত ২৭ জুন থেকে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে খন্দকার মোশাররফ।
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় তিন নেতার সিঙ্গাপুর যাওয়া প্রসঙ্গে টিপ্পনী কেটেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তারা কি আদৌ চিকিৎসা নিতে গেলেন, নাকি আবার কোনো ষড়যন্ত্র করতে একসঙ্গে সিঙ্গাপুর গেলেন-এটি অনেকের প্রশ্ন।
এর জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার পতন আন্দোলনের পরামর্শ করতে বিদেশ যেতে হবে কেন? আমরা তো খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলছি, এ সরকারকে ফেলে দেব। ষড়যন্ত্র করতে দেশের বাইরে যেতে হবে কেন? তিনি বলেন, বিএনপিকে কি সিরাজ সিকদারের দল কিংবা গণবাহিনীর মতো কোনো সংগঠন নাকি? যা করবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে করবে এবং তা দেশে থেকেই করবে। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়েও সরকার রাজনীতি করছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, এটা ঠিক আছে চূড়ান্ত আন্দোলনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বিদেশ গেছেন। কিন্তু এখন আন্দোলনে কিছুটা বিরতি আছে। এতে চলমান আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিদেশে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোনো বৈঠক হতে পারে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘না, না। এরকম কোনো পরিকল্পনা নেই। চিকিৎসা শেষ করেই তারা দেশে চলে আসবেন। মহাসচিব মনে হয় দুই সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরবেন। এক ও দুই সেপ্টেম্বর আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান রয়েছে।’
এমন আলোচনার মধ্যেই রোববার রাতে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। সে টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী রাহাত আরার ছবির সঙ্গে একটি চেকের ছবিও সংযুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, এটি আওয়ামী লীগের একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা। চলমান আন্দোলন সরকার নিপীড়ন-নির্যাতন করে কোনোভাবেই দমন করতে পারছে না। তাই সরকার নানা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। তাদের কাজই গুজব তৈরি করা এবং মানুষের চরিত্র হনন করা। ভাইরাল হওয়া ভুয়া চেক প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এত দয়া! খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে না দিয়ে তার দলের মহাসচিবকে টাকা দেবে চিকিৎসার জন্য। এসব ব্যঙ্গ-তামাশা বেশি দিন থাকবে না।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অসুস্থতার কারণে সিঙ্গাপুর গেছেন। এ নিয়ে যে ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বিএনপি তার নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, ফেসবুকে ভুয়া অপপ্রচার চালিয়ে, এজেন্সিগুলোকে দিয়ে সরকার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ ধরনের ভুয়া ও জালিয়াতকারীরা সবসময় থাকে। আর এদের মদদ দিচ্ছে এ অবৈধ সরকার।
এদিকে খবর বেরিয়েছে, সিঙ্গাপুরে সফররত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। কোনো ধরনের প্রচার ছাড়াই বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে ট্রানজিট নিয়ে সিঙ্গাপুর গেছেন তিনি। তিনিও সস্ত্রীক ভ্রমণের উদ্দেশে থাইএয়ারওয়েজের ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর গেছেন। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, আমি ঢাকায় আছি। কয়েক দিন নিজ সংসদীয় এলাকা ময়মনসিংহে ছিলাম। যদিও পত্রিকায় দেখলাম, আমি নাকি সিঙ্গাপুরে আছি। সেখানে কোনো বৈঠক প্রসঙ্গে আমি বলতে পারব না।

 

আরও পড়ুন