শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ

নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি,পল্টনে উৎসবের আমেজ

 

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে তাদের পছন্দের জায়গায় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামীকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) আওয়ামী লীগ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এবং বিএনপি নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) রাতে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান।তিনি জানান, বিএনপিকে কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপিকে ঢাকার নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনেই মহাসমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বিষয়টি জানাবেন।

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামীকাল শনিবার (২৮ অক্টোবর) নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগও একই দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে।

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল শনিবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একে একে জড়ো হতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই দলের কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে শুরু করেছেন।

নয়াপল্টনে উৎসবের আমেজ

আগামীকাল ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে জড়ো হয়েছেন হাজারো নেতাকর্মী। তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। নানা কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) নয়াপল্টনে দেখা যায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

বগুড়া থেকে এসেছেন রমজান আলী। তিনি বলেন, ‘আমি গত ১৮ তারিখ ঢাকায় এসেছি। পরের দিন যাত্রবাড়ি আড়ৎ থেকে আমরা কিনে বিক্রি করছি। এই সরকারের পতন না দেখে বাড়ি ফিরব না।’

এদিকে সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই রিকশা মিছিল করেন চালকসহ নয়াপল্টনে থাকা কয়েকশ নেতাকর্মী।

এদিকে পুলিশি গ্রেপ্তার, হয়রানি ও তল্লাশি এড়াতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা অনুসরণ করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ঢাকায় মহাসমাবেশের উদ্দেশ্যে যাওয়া নেতাকর্মীদের দলবদ্ধভাবে না যাওয়া, হোটেল-মেসে না থাকা, স্মার্ট ফোন না ব্যবহার করাসহ নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মহাসমাবেশ ঘিরে গত দুদিনে বেশকিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ জানানো হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তারা আশঙ্কা করছেন, যাত্রাপথে তাদের বাধা ও হয়রানি করা হতে পারে। এ জন্য কৌশলে ঢাকায় ঢুকছে দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং আশপাশের গলিতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকেলে নাইটিঙ্গেল মোড়ে ডিবি প্রধান হারুন উর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই দলই সমাবেশে অনুমতি পাবে। তবে স্থানের বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। স্থানের বিষয়টি খুব দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে তাদের।

শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেন, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৪০২০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, পছন্দের জায়গায় সমাবেশ করতে দুই দল ও পুলিশের মধ্যে চিঠি চালাচালির পর অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে তাদের এ অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে বিশৃঙ্খলা করলে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর হবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকল্প দুটি ভেন্যুর নামসহ ৭টি তথ্য চেয়ে আওয়ামী লীগকে চিঠি দেয় পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুলিশের চিঠির চাওয়া সব তথ্য দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন