বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

নয়াপল্টন, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট এবং শাপলা চত্ত্বর- এক কিলোমিটারের মধ্যে তিন দলের সমাবেশ ঘিরে দিনভর ছিল উত্তেজনা। বিএনপি-আওয়ামী লীগের সমাবেশের অনুমতি থাকলেও ছিল না জামায়াতের অনুমতি। তাই সচারচর সবার চোখ ছিল তাদের দিকে। কী হতে যাচ্ছে শাপলা চত্ত্বরে। অবশেষে দিনশেষে আলোচনায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ।

এদিন ভোর থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মগবাজারের দিক থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিকআপে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছিলেন। কাকরাইল থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত রাস্তায় আগে থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। এতে পিকআপটি গুলিস্তানের দিকে যেতে পারেনি। এ সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষের অনেকের হাতেই লাঠিসোঁটা দেখা যায়। কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

এরপর বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকার হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতি ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) বাসভবনের বিপরীত পাশে দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় কাকরাইল মোড়ে থাকা কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংর্ঘষ বাধে। এরপর ধীরে ধীরে কাকরাইল, পল্টন, শান্তিনগর, আরামবাগ হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ।

কাকরাইলে দফায় দফায় চলে বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ চলতে থাকে। সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়়। সেখানে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিবি) ভবনে রাখা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় বিএনপি কর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে বিজিবি।

শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়ে বিএনপি পুলিশের ওপর হামলা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। রাজধানীর কাকরাইলে প্রধান বিচারপতি বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন তিনি।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সমাবেশগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার কথা, ডিএমপি কমিশনারের কাছ থেকে তারা এমন শর্তেই অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ পুলিশের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর আমরা তাদের সরিয়ে দিই। পরে তারা আইডিইবি ভবনে আগুন দেয়, চিফ জাস্টিজের ভবনে ভাঙচুর করে। আমরা সেখান থেকেও তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’

এদিকে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে ডিউটিরত অবস্থায় কনস্টেবল পারভেজ (৩২) নামের এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতের বাড়িমানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায়। আজ শনিবার বেলা ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঢামেকের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পথচারী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ ৪০ জনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

আরও পড়ুন