সোমবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সর্বশেষ

চট্টগ্রাম ১৬ আসনে আওয়ামীলীগের নতুন চার মুখ

চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অপেক্ষার প্রহর শেষ। চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা পেরিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম- ১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর ছেলে মাহবুবুর রহমান।
আসনটিতে মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দীন। এছাড়া মহাজোটের শরীক দল সাম্যবাদী দলের হয়ে সেখানে লড়তে চাইছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়িতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ।১৯৯৬, ২০০১ সালে পরপর দুবার ফটিকছড়ির সাংসদ ছিলেন প্রয়াত রফিকুল আনোয়ার। তাঁর মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। ১৯’সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি হয়ে প্রথম সংসদে বসেন। এছাড়াও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।

ফটিকছড়িতে দলীয় নানা বিভেদ থাকলেও নির্বাচন ঘিরে ‘ভান্ডারি হটাতে’জোটবদ্ধ সবাই। আগে প্রকাশ্যে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য থাকলেও এখন কাদা ছোঁড়াছোড়ি বন্ধ। বছর ধরে আসনটি উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন স্থানীয় নেতারা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহজাদা ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ। তিনিও ফটিকছড়ির খুব পরিচিত মুখ। এবার নির্বাচন করবেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপের বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। ২০০৯ সালে মনোনয়ন না পেলেও পরের দুই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মিতা।

চট্টগ্র্ম-৪ সিতাকুন্ড আসনটিতে মনোনয়ন বাগিয়ে নিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন এস এম আল মামুন। তার সঙ্গে মনোনয়ন দৌঁড়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য লায়ন মোহাম্মদ ইমরান।

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম।তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

মনোনয়ন চেয়েছিলেন— চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম চৌধুরী চৌধুরী বাবুল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস গনি চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মইনুদ্দিন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. শামীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মনজুরুল আলম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত।

চট্টগ্রাম-৬ এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন টানা চারবারের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী।
রেলপথ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ সরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রীর হওয়ার হিসেব নিকেশেও রাখা হয়েছিল তাকে।

চট্টগ্রাম-৭ এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আ.লীগের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।তিনি টানা ১০ বছর রাঙ্গুনিয়ার এমপি। দুবারই পেয়েছেন মন্ত্রীত্ব। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সামলিয়ে বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন তিনি। এবারও চট্টগ্রাম ৭ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে। তার বিপরীতে মনোনয়ন ফরম নিয়েও জমা দেননি যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরী।

চট্টগ্রাম -৮ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ।এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, মাঈনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোবারক আলী, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, কাজী শারমিন সুমি, এস এম নুরুল ইসলাম, এস এম কফিল উদ্দিন, বিজয় কুমার চৌধুরী, এটি এম আলী রিয়াজ খান, জিনাত শাহেনা চৌধুরী, মোহাম্মদ ইমরান, জাবেদুল আলম মাসুদ, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খুরশেদ আলম, মোহাম্মদ মনসুর আলম, মো. আব্দুল কাদের, কফিল উদ্দিন খান, শেখ আমেনা খাতুন, এম এ সুফিয়ান সিকদার, আশেক রসুল খান, মো. নুরুল আনোয়ার, মোহাম্মদ আবু তাহের, মাহমদ দিদারুল আলম, মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ ২৭ জন।

চট্টগ্রাম -৯ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রীর মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।এবার নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, দুই সহ-সভাপতি সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ও ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুনসহ অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন এই আসন থেকে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন নগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি কয়েকমাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ছাড়াও ১৯ জন আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তিন বারের সাংসদ এম এ লতিফ। ব্যবসায়ী নেতা লতিফ ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রথম আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও হাত ফসকে যায় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের।

চট্টগ্রাম ১২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম।এ আসনে দুইবারের সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম। মনোনয়ন প্রত্যাশার সারিতে ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়বও।

চট্টগ্রাম ১৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নিজ নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আওয়ামী লীগও তার ওপর আস্থা রেখেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনীত করেছে।
চট্টগ্রাম -১৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম ১৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।এ আসনে মনোনয়ন পেতে সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব সিআইপি। পদত্যাগ পত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও মূলত প্রার্থী হতেই পদ ছাড়েন তিনি।কে ঠেকিয়ে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তাকে টেকাতে একাট্টা হয়েছিলেন অনেকেই।

চট্টগ্রাম ১৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। তাকে ঠেকিয়ে আঁটসাটভাবে মাঠে নেমেছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি।

আরও পড়ুন