বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন ‘আওয়ামী’ স্বতন্ত্ররা, জমবে এবার ‘ভোটখেলা’

আপিল করে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী। রবিবার নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ নির্বাচন কমিশনাররা প্রার্থীদের বক্তব্য শুনে শুনানি শেষে রায় দেন।চট্টগ্রামে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের খেলা জমে উঠবে বলে মনে করেন এলকা বাসী।

প্রথম দিনের শুনানিতে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটের মাঠে থাকার অনুমতি পাওয়ায় ইসির আপিল টিমকে ধন্যবাদ জানান আবদুচ ছালাম। তিনি বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, ও পাঁচলাইশ এলাকার সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। তিনি নির্বাচিত হলে আধুনিক কালুরঘাট সেতু নির্মাণকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের দ্রুত বাস্তবায়ন করার অঙ্গিকার করেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাহবুব রহমান রুহেল। বর্ষীয়ান নেতার ‘উত্তরসূরী’ হিসেবে মনোনয়ন পেলেও তাকে এখন পাঞ্জা’ লড়তে হবে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে।
মনোনয়ন পত্র বৈধতা ফিরে পাওয়ার পর গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি প্রথম ধাপে ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমি চাই ভোটের মাধ্যমে মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করুক। মিরসরাইবাসীর ভোটের অধিকার নিশ্চিত করলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি এখানকার মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের অনুরোধে। আমি বিশ্বাস করি মিরসরাইয়ের আপামর জনসাধারণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভীকে পড়তে হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিআইপি এম এ মোতালেবের বিরোধিতার মুখে। ‘ত্রুটিযুক্ত’ ভোটার তালিকায় প্রার্থী তালিকা থেকে ছিটকে পড়লেও আপিলে টিকে গেছে তার মনোনয়নপত্র।প্রার্থীতা ফেরত পাওয়ায় মোতালেবের সমর্থকরা সংসদীয় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেন।
আবদুল মোতালেব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন আমার সমর্থক লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজানের বাসিন্দা পরিমল কান্তি উপস্থিত ছিলেন। তিনি অটোরিক্সা চালক ও কৃষক হওয়ায় সম্পূর্ণ গ্রামীন পরিবেশে বড় হয়েছে। যার ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সাধু-ভাষা তিনি বুঝতে পারেনি। যার কারণে তিনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা) মনে করেছেন ১ শতাংশ ভোটারে তার স্বাক্ষর সঠিক নয়। এছাড়া আমার অপর সমর্থক হচ্ছেন সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার। তিনি ওই দিন নানা ভয়-ভীতি পাওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। যার ফলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তিনি আরও বলেন, রোববার সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে পরিমল ও জেসমিন স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে এবং তাদের ভোটার আইডি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কমিশনের নিকট উপস্থাপন করেছেন। তারা আমার পক্ষে পুর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে কমিশনের নিকট ভাষ্য দেন। ফলে কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করে আমার মনোনয়নপত্রের বৈধ ঘোষণা করেন।

 

আরও পড়ুন