মঙ্গলবার, ৫ই মার্চ, ২০২৪

সর্বশেষ

ভাটবাউর মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালিত

মহান বিজয় দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে “মাদক যেখানে, প্রতিরোধ সেখানে” প্রত্যয়ে গঠিত মাদক প্রতিরোধ কমিটি, ভাটবাউর, মানিকগঞ্জ এর উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভাটবাউর মাঠে ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত ক্রীড়ানুষ্ঠানে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ ও ছোটদের জন্য বিভিন্ন আনন্দদায়ক খেলাধূলা পরিচালনা করা হয়। ক্রীড়ানুষ্ঠান শেষে পুরস্কার বিতরনীর সময় বিচারকমন্ডলীরা মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

জানা যায়, ভাটবাউর গ্রামটি জেলা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় এবং মাদকের সহজলভ্যতা, অভিভাবকদের অসচেতনতা, ধর্মীয় শিক্ষার অভাব ও সহজেই টাকা উপার্জনের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন কারণে মাদকসেবী ও বিক্রেতার আধিক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেছে। কতিপয় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর কারণে যুবসমাজের এমন অধঃপতন ঠেকাতে গ্রামের সচেতন লোকজন মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ০৫ জুলাই ২০২৩ তারিখে ভাটবাউর যুবসংঘের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে উপপরিচালক মো: হামিমুর রশীদ সকলকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ প্রদান করেন। পরবর্তীতে দীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার উদ্দিন আহমেদ (রাজা) ০৮ নং ইউপি সদস্য মাসুদ রানাকে সভাপতি, ০৭ নং ইউপি সদস্য আবু তাহের লিটনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, নারী সংগঠক ঝর্ণা আক্তারকে সহ-সভাপতি ও মো: সুমন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করেন।

কমিটি গঠনের পর সদস্যরা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরামর্শ দেন এবং তাদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন করেন। প্রাথমিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে গ্রামের বেশিরভাগ মাদক ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মো: রাসেল মিয়া ও সাদিকুল ইসলাম রাব্বিসহ অনেকেই “ভবিষ্যতে মাদক সেবন ও বিক্রি করবেনা” মর্মে স্ট্যাম্পে মুচলেকা প্রদান করে গ্রামে ফিরে আসলেও তারা পুনরায় মাদক বিক্রি শুরু করে। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল মিয়া এবং আরজুকে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমান আদালত এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। আটককৃত মঙ্গল মিয়ার পুত্র লিমন বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছে। স্থানীয় লেবুর পুত্র লিমন পলাতক, এবং মাসুম ও শাহিনকে তাদের অভিভাবকরা শাসন করেছেন। এছাড়া, জনৈক ভাড়াটিয়া মাদক জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ার পর তিনি সপরিবারে এলাকা ত্যাগ করেছে। যারা মাদক ব্যবসায়ে জড়িত ছিলো তাদের অনেকে জেলখানা ও আত্মগোপনে থাকায় বর্তমানে ভাটবাউর গ্রামটি অনেকটা মাদকমুক্ত হয়ে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে সম্প্রতি স্থানীয় রুপচাঁন খলিফার পুত্র সদর উদ্দিন প্রকাশ সদা ঢাকায় ব্যবসা থেকে দেউলিয়া হয়ে গ্রামে ফিরে এসে কাপড় বিক্রির আড়ালে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তার সাথে মাদক ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম রাব্বিসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ দেখা যায়।

সমাজসেবক আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় ক্রীড়ানুষ্ঠানে মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ঝর্ণা আক্তারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মো: সুমন মোল্লা, যুব-সমাজের প্রতিনিধি সাগর প্রমুখ। মাদক প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ঝর্ণা আক্তার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী আরজুর স্ত্রী ও মাদক ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম রাব্বি হুমকি-ধামকির পাশাপাশি কুৎসা রটনা করছে। এ ধরনের হুমকি মাথায় নিয়ে আমরা মাদক যেখানে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, কেননা মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের শত্রু। বক্তারা মহান বিজয় দিবসে মাদকের বিরুদ্ধে আরো একটা যুদ্ধের ঘোষনা দেন।

আরও পড়ুন