তীরে গিয়ে তরী ডুবলো বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির।দলের মনোনয়ন পেয়ে গত ১৬ নভেম্বর থেকে গণসংযোগ, সভাসমাবেশ করে আসছিল। নির্বাচনের সাতদিন আগে সরে যেতে বলায় তার সমর্থক ও কর্মী বাহিনীর মাথায় পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার কারনে তিনি বিগত ৫ বছর এলাকায় উন্নয়নের কাজ করেছেন।যোগাযোগ ছিল নেতা কর্মীদের।তার বাবা রফিকুল আনোয়ার এ এলাকার সংসদ ছিলেন।তিনি ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।ফটিকছড়িতে তার পরিবাবের সুনাম রয়েছে।
কিন্তু নির্বাচনের সাত/আটদিন আগে সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভা-ারীকে (একতারা) সমর্থন দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই ব্যাপারে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ফোনে এই নির্দেশনা দেন বলে জানান জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা।

এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের ভাই (ওবায়দুল কাদের) আমাকে ও সভাপতি সালাম সাহেবকে (এম এ সালাম) ফোন দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নেত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ওখানে (ফটিকছড়িতে) নৌকা থাকবে না, সুপ্রিম পার্টির একতারা (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী) থাকবে। আমি গতকাল (বৃহস্পতিবার) উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পথসভায় গিয়েছিলাম। এ সিদ্ধান্তটা আরো আগে আসলে আমি তাদের জানাতে পারতাম। নৌকাকে (আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ারা সনি) সেখানে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।’

অপরদিকে এই বিষয়ে জানতে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দীন মুহুরী বলেন, আমাকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ভাই ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা কোন ফর্মুলায় নির্বাচন থেকে বের হয়ে আসবো সেটা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলছি। এ নিয়ে নেতাদের সাথে কথা চলছে, এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। কী ফর্মুলায় এগুবো তা মিডিয়াকে শীঘ্রই জানানো হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম– ২ ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এই আসনের প্রয়াত সাংসদ রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তবে এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা করেছিলেন বর্তমান সাংসদ ও ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও নতুন নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দল সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী। শেষ পর্যন্ত নৌকা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ দুইজন এখন নিজেদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।

তবে বেশ কদিন ধরে চট্টগ্রাম–২ ফটিকছড়ি আসনটি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে সমর্থন দিয়ে নৌকার প্রার্থী সরে যাবেন এমন একটি কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি গুজব বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কয়েকদফা সংবাদ সম্মেলন এবং প্রতিবাদও করে। কিন্তু শেষমেষ সেই গুজবই সত্য হচ্ছে।

চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে বর্তমানে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, আওয়ামী লীগ (নৌকা), সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভন্ডারী, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা), সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, স্বতন্ত্র প্রার্থী (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী। মীর মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম, ইসলামিক ফ্রন্ট (চেয়ার), মো. শফিউল আজম চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল), মো. হামিদ উল্লাহ, ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি), মোহাম্মদ শাহজাহান, স্বতন্ত্র (ঈগল)।