শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সর্বশেষ

জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামীলীগের জাল ভোটই একমাত্র সম্বল

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো শেখ হাসিনা সরকার আবারও গায়ের জোরে একতরফা ভোটহীন একটি পাতানো নির্বাচন করতে যাচ্ছে। সরকার এবারের নির্বাচনেও ভোট ডাকাতির উৎসব করতে চায়। কিন্তু তামাশা ও প্রহসনের এই নির্বাচনে কোন বিরোধী দল অংশগ্রহণ করছে না। দেশের জনগণেরও এই নির্বাচনে ন্যূনতম কোনো আগ্রহ নেই। এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি, আওয়ামীলীগের সকল এমপি প্রার্থীরা ভোটার সংগ্রহের জন্য এবং জাল ভোট প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় ভোটার আইডির সার্ভার ব্যবহার করতেছে। ভোট ডাকাতিতে জড়িত আওয়ামীলীগের নেতাদের মুঠোফোনে জাতীয় ভোটার আইডির মূল সার্ভার অপারেটিং হচ্ছে। আমরা জানতে চাই, রাষ্ট্রীয় ভোটার আইডির মূল পাসওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের হাতে কিভাবে আসলো? ইতিপূর্বে লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপনির্বাচনে ৫৭ সেকেন্ডে ৪৬ টি জাল ভোট দেওয়ার রেকর্ড হয়েছে। এই নির্বাচনেও তারা গায়েবি জাল ভোট দিয়ে পার্সেন্টিস বাড়িয়ে বিদেশীদের দেখানোর আয়োজন করছে। ভোটার টানতে সাধারণ মানুষের এনআইডি, সরকারি সুবিধাভোগীদের কার্ড ও অফিসের কার্ড নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামীলীগের জাল ভোটই একমাত্র সম্বল।

তিনি শুক্রবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরে প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক ও মেডিকেল এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরির লক্ষ্যে মহানগর সিএনজি চালক দলের মিছিল, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে আসন ভাগাভাগির একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিনা ভোটের আওয়ামী সরকার ও নির্বাচন কমিশন একাট্টা হয়ে গণ আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে যাচ্ছে। এক তরফা নির্বাচনের নামে হাজার কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের অর্থনীতি ক্ষতি করা হচ্ছে। এই নির্বাচন হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের লুটপাট ও অনিয়ম জারি রাখার নির্বাচন। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে কোটিপতি হওয়ার অবৈধ পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির নির্লজ্জ খেলা। গত তিনটি নির্বাচনে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মানে হল ক্ষমতাসীনদের সকল অন্যায় জুলুম ও দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়া। তাই দেশপ্রেমিক কোন নাগরিক ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। দেশ ও জাতির স্বার্থে ৭ জানুয়ারি ভোট বর্জন করুন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য জাকির হোসেন, চালক দলের উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আনিস, মহানগর সিএনজি চালক দলের সভাপতি নুর মিয়া মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাকিব, সহ সভাপতি মো. খোকন, মো. ইদ্রিছ, মো. ইসরাফিল, আইয়ুব আলী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাঈল, নুর আলম প্রমূখ।

এছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান ও আহবায়ক কমিটির সদস্য সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাশেমের নেতৃত্বে হালিশহর বড়পুল এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি নেতা শহীদ মো. চৌধুরী, দিদারুল আলম, নকিব উদ্দীন ভুইঁয়া, ইলিয়াছ চৌধুরী, খুরশিদ মাঝি, পারভেজ আলম, মো. আসিফ, মো. মুরাদ, আফছারুল ইসলাম, মো. মাইনু, মো. ইউনুছ। তাছাড়া দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজম উদ্দিনের নেতৃত্বে বন্দর ইপিজেড এলাকায় কারাবন্দী বিএনপি নেতা এম এ আজিজ সহ সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি ও সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজের নেতৃত্ব শাহ আমানত ব্রীজ এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মো. হোসেন টিটুর নেতৃত্বে বন্দর নেভী হাসপাতাল গেইট এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন