সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন পেতে মরিয়া এক ডজন মহিলা নেত্রী

চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে এবার চোখ সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে।৩০ জানুয়ারী শুরু হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।এ অধিবেশনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা হবে।এ দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম থেকে কজন পাচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের টিকিট তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম থেকে দুজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদে ছিলেন।তার মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ’)র সদস্য এডভোকেট জিনাত সোহানা চোধুরী। সাধরণ মানুষের পাশাপাশি, দলের হাইকমান্ডদের কাছেও তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঢাকায় ঘিয়ে হাইকমান্ডের সাথে লভিং শুরু করেছেন।তারা তুলে ধরছেন নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা। একাদশ জাতীয় সংসদে ওয়াসিকা আয়েশা খান ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি সদস্য ছিলেন।কিন্তু সনি ইতি মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসন থেকে সরাসরি ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম থেকে এবার সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় নাম শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান,তিনি গত সংসদে এমপি থাকলেও আবার হতে আগ্রহী।অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী,এ ছাড়াও দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব, সাবেক সভাপতি হাসিনা মান্নান, সাবরিনা চৌধুরী,সাবেক কাইন্সিলর রেখা আলম, কাউন্সিলর আবিদা আজাদ ,বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা,  কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাজেদা সুরাত, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসন্তী প্রভা পালিত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জোবাইদা নার্গিস খান, সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী, রেহেনা কবির রানু প্রমুখ।
জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব এবার চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে সরাসরি ভোটের মাঠে নামতে চেয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের পথ খোলা থাকলেও তিনি তা করেননি। সংরক্ষিত নারী আসনে আবার সংসদ সদস্য হতে চান।তিনি বলেন, আমি এবার সরাসরি ভোটের মাঠে নামতে প্রস্তুত ছিলাম। সংরক্ষিত নারী আসনে এবারও মনোনয়ন চাইবো। নেত্রী মনোনয়ন দিলে আমি জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ নিতে চাই।

অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী এ বার জোর লভিং চালিয়ে যাচ্ছেন এমপি হতে।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে নৌকার প্রার্থীদের সমর্থনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভিজুয়্যালি প্রতিটি জনাকীর্ণ স্থানে বিএনপি জামায়াতের হরতালে বর্বরতা এবং বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছি। এছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টায় দিনবদলের উন্নয়নের চিত্র প্রতিটি মানুষের কাছে তুলে ধরে নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছি।

তিনি বেসরকারি কারা পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন অতি সুনামের সাথে।সমাজসেবা থেকে শুরু শিক্ষা, বাণিজ্য সবখানেই রেখেছেন অবধান। মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীতের প্রচলন, শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে না জড়ানোর শপথের ধারাবাহিকতা, করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের হালিশহরে করোনা আইসোলেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।তিনি তাহের নাহার ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে ৩৫০টিরও অধিক সেমি পাকা গৃহনির্মাণ করে দিয়েছেন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় মানুষদের। বিভিন্ন মাদরাসায় অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন জিনাত সোহানা। তার ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ‘অদম্য ও সাহসী সোহানা’ নামে পরিচিতিও পান তিনি।এইসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন তিনি।

এডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স ও উইমেন্স চেম্বার এন্ড কমার্সের সদস্যের পাশাপাশি ফারমিন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে পোশাক পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।জিনাত সোহানা চৌধুরীর স্বামী মোহাম্মদ ইমরান । ইমরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি। এর আগে দীর্ঘ সময় তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চান সাবেক এমপি মাজহারুল হক শাহর কন্যা সাবরিনা চৌধুরী। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।বর্তমানে আওয়ামীলীগের উপ কমিটির সদস্য।তিনি ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতার সাথে লভিং চলিয়ে যাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আতাউর রহমান কায়সারকন্যা ওয়াসিকা আয়েশা খানের এবারও সংসদে যেতে চাই।তিনি গত সংসদের এক জন সদস্য ছিলেন।দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাসিনা মান্নান ও বর্তমান সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ হতে চান এমপি।তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করছি। জনগণের সেবার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও আমার সক্রিয় সম্পৃক্ততা আছে। আশা করি দল আমার কাজের মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে চান সাবেক সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর রেখা আলম।তিনি দীর্ঘদিন কাউন্সিলর থেকে মানুষের সেবা করেছেন।এখনো তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি বলেনএ বার আমি মনোনয়ন পাব ইনশাআল্লাহ।
দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন শামীমা হারুন লুবনা। ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুল্লাহ আল হারুনের কন্যা তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।কিন্তু হতে পারেনি। এ বার তিনি এমপি হতে চান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ছাত্ররাজনীতির শুরু আমার। স্বৈরশাসক এরশাদ হটানো থেকে গণজাগরণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন সবখানে আমার অংশগ্রহণ ছিল। এবারো আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।
সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট পাপড়ি সুলতানা। তিনি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক কোষাধ্যক্ষ। চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের বিদায়ী কারা পরিদর্শক। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালতের অ্যাডিশনাল পিপির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাবার বাড়ি ফটিকছড়িতে এবং শ্বশুরবাড়ি পটিয়ায়। স্বামী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত।কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক সাজেদা সুরাত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হয়ে সংসদে বসতে চান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায়। ঢাকা ওমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

আরও পড়ুন