রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ

অহিংস আন্দোলনে বাধা দিয়ে এখন সহিংসতা করানোর চেষ্ঠা চলছে সরকার-জেনারেল(অব.)সৈয়দ ইবরাহিম

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছেন,বাংলাদেশকে সংকট থেকে মুক্তির দুটি উপায় হতে পারে। একটি হচ্ছে সমঝোতা এবং অন্যটি হচ্ছে সংঘাত। সার্বিকভাবে বিরোধী দল সংঘাতে জড়াবে না। সরকারী দল যদি একই ধরনের মানসিকতা অটুট রাখে, তাহলে সংঘাত ঘটবে। শান্তিকামী মানুষের সামনে পুলিশ যখন অস্ত্র নিয় দাঁড়ায়, গুলি করে তখন রক্তপাত ঘটে। অহিংস আন্দোলনে বাধা দিয়ে এখন সহিংসতা করানোর চেষ্ঠা চলছে সরকার।
চলতি সপ্তাহে যুগপৎ একদফা দাবি আদায়ের আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। এক দফার আন্দোলন হবে ঢাকামূখী আন্দোলন।

গতকাল রবিবার বিকালে নগরের দুই নম্বর গেটস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতি আগে কখনো ছিলো না। ২৭ বছর আমি আর্মিতে কর্মকর্তা হিসাবে দেখেছি, আবার ২৭ বছর বাইরে থেকে দেখেছি। এখন আমরা সবচেয়ে বড় সংকট মোকবেলা করছি। এখন দুটি পক্ষ অবস্থান করছে। একটি সরকার পক্ষ দল আরেকটি বিরোধী দল বা জনগনের প্রতিনিধিত্বকারী দল। সরকার জনগনের প্রতিনিধিত্বকারী দল না।

আমাদের আন্দোলন দেশবাসীর ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেড় বছর আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে আছে বিএনপি। ২০ দলীয় জোট ছিল সেটা ভেঙে দেয়া হয়েছে। তারও আগে ঐক্যফ্রন্ট বিলুপ্ত হয়েছে। এখন ১২ দলীয় জোটের মধ্য কল্যাণ পার্টি একটি দল। আমাদের আন্দোলন রাজনৈতিক দলকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুক্ত করা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যে নির্বাচিত হবে তাকে আমরা স্বাগত জানাবো।
আগামীর আন্দোলন ঢাকামূখী আন্দোলন হবে। ঢাকা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আন্দোলন সফল হবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঢাকা কেন্দ্রীক আন্দোলন হয়েছে। রাজধানী কেন্দ্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।
আগামী ১২ জুলাই বিএনপি যুগপৎ একটি ঘোষণা দিবে। একদফা দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পূর্নবহাল করে সরকারের বিদায় নিতে বাধ্য করা হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু হবে। আগামী সপ্তাহ শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ঢাকায় পদচারণা তাকবে। মানবাধিকার লঙ্গন, গনতান্ত্রিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠা হোক সেটা তারা চায়।
আন্দোলন বেগবান হলে সরকার যেন সহিংস পরায়ন না হন। এখন যে প্রবণতা দেখছি, ১০/১৫ বছরের আগের মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। যেন কারাগারে নেতাকর্মীদের নিয়ে যেতে পারে। আন্দোলন ধমাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় আন্দোলন চলার কারণে প্রচুর নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করে আন্দোলন থামানোর সে সুযোগ আর নেই।
বিরোধী দলের আন্দোলন আর বিদেশীদের তৎপরতার মধ্যে আংশিক মিল আছে। বিরোধী দলের আন্দোলন ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। বিদেশীরা মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলছেন। এজন্য তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারেন। এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। দেশের সকল মানুষের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হবে।
এবার ২০১৪ বা ২০১৮ স ালের মতো নির্বাচন করতে পারবে না। এখন সবাই সচেতন হয়েছে। বিরোধী দল সচেতন, সরকারি দল সচেতন একই সাথে আন্তর্জাতিক মহলও খুবই সচেতন। জনগনের দাবি মোতাবেক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে বলে আমি মনে করি।
জামায়াতের সাথে আমাদের রাজনৈতিক কোন জোট নেই। তবে জামায়াত এখন সর্বাধিক সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। শত দমন-নিপীড়নের পরও জামায়াত অনেক সংগঠিত। তারা কখনো অদৃশ্য আবার কখনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালনা করছে-সেটা তারা বলতে পারবেন।

 

আরও পড়ুন