শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ

এক যুগ পর ঢাকার পাড়া মহল্লায় বিএনপির মাইকিং

বিএনপির কালকের সমাবেশ উপলক্ষে ঢাকা শহরের পাড়া-মহল্লায় চলছে মাইকিংসহ নানামুখী প্রচার। মাইকে সবাইকে কাল বুধবারের সমাবেশে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যে সমাবেশ থেকে একদফা আন্দোলেনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সোমবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় রিকশা করে সমাবেশের মাইকিং চলছে। মাইকে ঘোষণা হচ্ছে- ‘প্রিয় নগরবাসী, আসছে ১২ জুলাই বুধবার দুপুর ২টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম কমানো ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হবে এই সমাবেশ। উক্ত সমাবেশে দলে দলে যোগদান করে আওয়াজ তুলুন “এই মুহূর্তে দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার।” চল চল পল্টন চল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোল।’
বিএনপির সামবেশে নিয়ে মাইকে এমন প্রচার নিকট অতীতে দেখা যায়নি। নয়াপল্টনের পাশের একটি গলিতে এমন প্রচারণা চলাকালীন কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির এক নেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, এক যুগ পর সমাবেশ ঘিরে আমরা মাইকে পাড়া-মহল্লায় প্রচার করতে পারছি। আন্দোলনে আলো আসবে। এই যাত্রা বিজয় যাত্রায় পরিণত হবে।
এই রাজনৈতিক অধিকার আমরা অর্জন করেছি। সম্প্রতি জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বড় শোডাউনের মাধ্যমে একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দিতে চায় বিএনপি। এ জন্য ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীদের পল্টনে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর এই সমাবেশের মূল আয়োজক। রোববার নয়াপল্টনের ভাসানী মিলনায়তনে মহানগর উত্তর বিএনপির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাপক লোক সমাগম ঘটাতে প্রতিটি থানা এবং ওয়ার্ডের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, সমাবেশ সফল করতে আমরা যৌথ সভা করেছি। ইতিহাসের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। সবাই যাতে সমাবেশে আসে তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। সমাবেশ সফল করতে তারা দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা করছে। ঢাকা জেলাও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়া চৌধুরী  বলেন, আমরা সমাবেশের ব্যাকআপ হিসেবে থাকব। প্রত্যেকটি ইউনিটের সঙ্গে আলোচনা প্রস্তুতি সভা-ঘরোয়া বৈঠক চলছে।
সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ঢাকা জেলা ছাড়া আশপাশের এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বুধবার নয়াপল্টনে জমায়েত হবেন। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল  জানান, কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে বুধবারের সমাবেশে যেতে বলা হয়েছে। তবে কর্মীদের বাধ্যবাধকতা নেই। যে পারে ঢাকা যাবে- এমনটা বলা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, মোবাইলে খুদে বার্তা দিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের বুধবার দুপুরে নাইটিঙ্গেল মোড়ে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমাবেশের জন্য পুলিশের কাছে লিখিত অনুমতি চেয়েছে বিএনপি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও সিএনজিযোগে মাইক ব্যবহারের অনুমতিও চাওয়া হয়। সমাবেশ থেকে একদফার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নিয়ে গতকাল সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে দিনভর যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি।
জানা গেছে, একই দিনে, একই সময়ে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ৩৮ দল আলাদা মঞ্চ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একদফার ঘোষণা দেবে। গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট বিজয়নগর কালভার্ট রোডে সমাবেশ থেকে একদফার ঘোষণা দেবে। অলি আহমেদের এলডিপি তেজগাঁওয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ঘোষণা দেবে। অন্য শরিকরাও পল্টন ও এর আশপাশে কর্মসূচি পালন করে একদফার ঘোষণা দেবে। পরে বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক বলেন, বুধবার একদফার যৌথ ঘোষণার পাশপাশি রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা প্রস্তাবও তুলে ধরা হবে। তবে এখনই হরতাল, অবরোধ আসবে না। সমাবেশ কিংবা মানববন্ধন আসতে পারে। আর বিএনপি ও আমাদের পদযাত্রাসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি সামনে আছে। এগুলো শেষ করে রাজপথের ভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরদের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি ঘটনা নিয়ে বিএনপি বিব্রত ও কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। এসব ঘটনা নেতিবাচক হিসেবে বৈঠকে আলোচনা হয়। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সময়ের আলোকে বলেন, বুধবার বিকেল তিনটা থেকে চারটার মধ্যে এক দফার ঘোষণা দিতে বিএনপি শরিকদের নির্দেশনা দিয়েছে। এর কোন ব্যত্যয় যাতে না হয়- সেদিকে জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে জামায়াতে ইসলামী ওই দিন একদফা ঘোষণা না দিলে পরে তারা নিজেদের কর্মসূচি থেকে তা ঘোষণা করবে বলে দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন