শুক্রবার, ১২ই জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ

বুধবার আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে রাজধানী

বিএনপি এক দফা কর্মসূচির ঘোষণা দিতে আগামীকাল বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে দলটি। এরই প্রেক্ষিতে ওইদিন রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলটির দখলে থাকবে রাজধানী। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার নামে যাতে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য বা জনগণের জানমালের কোনো ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য আমরাও মাঠে থাকব। আমরা কাউকে মাঠ ছেড়ে দিতে পারি না। শুধু ১২ জুলাই নয়, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে। যেখানে বিএনপি সহিংসতা করবে আমাদের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে সেটি মোকাবিলা করবে। তাই ১২ জুলাই বেলা ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা থাকবে আওয়ামী লীগের দখলে। এ শান্তি সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক নেতা বলেন, বিএনপি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে নাকি মাঠে নামবে ১২ জুলাই থেকে। আমরাও মাঠে থাকব। আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে শক্তি জানান দেবে। তারা যদি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতাসহ জনগণের জানমালের কোনো ক্ষতি করে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে রাজনৈতিকভাবে সেটি মোকাবিলা করবে। শুধু আগামী ১২ জুলাই নয়, জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। বিএনপি-জামায়াত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব। তাদের কোনোভাবেই বাড়তে দেওয়া হবে না। তারা যাতে রাজপথ দখলে নিতে না পারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, বিএনপি এক দফা কর্মসূচির নামে দেশে সন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজপথে তাদের প্রতিহত করবে। আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই একের পর কর্মসূচি পালন করে আসছে। তাই ১২ জুলাই আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কোনো কর্মসূচি পালন করছে না। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকব। সরকারের উন্নয়নগুলো তুলে ধরব। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি কর্মসূচি পালন তো করছেই। তাদের তো কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু সন্ত্রাস করলে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম  বলেন, বিএনপি যদি ১২ জুলাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে তা হলে তাদের বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু তারা যদি হুমকি দেয়, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
এদিকে বিএনপি আগামীকাল বুধবারের এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার নামে সমাবেশকে সফল করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অলিগলিতে মাইকিং করতে দেখা গেছে। এতে করে ক্ষমতাসীন দলটিও নড়েচড়ে বসেছে। আওয়ামী লীগ মাইকিং না করলেও শান্তি সমাবেশকে সফল করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শরফুদ্দিন আহমেদ সেন্টু ও হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন ও গোলাম সারোয়ার কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর, দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জগলুল কবির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবদুল মতিন ভূঁইয়া এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী, ড. খন্দকার তানজির মান্নান।
সভায় নেতারা বলেন, আগামী ১২ জুলাই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ করবে। প্রতিটি থানা-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ইচ্ছায় দলে দলে এই সমাবেশে যোগদান করবে। একই সঙ্গে সমাবেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমাবেশে প্রায় দেড় লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, আগামী ১২ জুলাইয়ের শান্তি সমাবেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জনসমুদ্রে রূপ নেবে। এতে প্রায় দেড় লাখ নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে গুলিস্তান-নবাবপুর, দৈনিক বাংলা মোড়, মুক্তাঙ্গন-জাতীয় প্রেসক্লাবসহ আশপাশের এলাকা শুধু আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে দেবে দেশবাসী আগামী নির্বাচনে আবারও ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে জয়যুক্ত করবে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল  বলে, আগামী ১২ জুলাই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে প্রতিটি থানা-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগদান করবে। আমি ডেমরার পক্ষে ৩-৪ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগদান করব। একই সঙ্গে সমাবেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান  বলেন, আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করবে। এটি কোনো পাল্টা কর্মসূচি নয়। আমরা একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে আসছি, এরই প্রেক্ষিতে আমাদের এই কর্মসূচি। তবে বিএনপি যদি কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে সমুচিত জবাব দেবে।
এদিকে আগামী ১২ জুলাই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে মহানগর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশকে সফল করতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর টিসিবি ভবনের অডিটরিয়ামে বর্ধিত সভা করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। এতে উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সঞ্চালনা করবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি। অন্যদিকে ১২ জুলাই শান্তি সমাবেশকে সফল করতে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তেজগাঁও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে সংগঠনটি বিশেষ বর্ধিত সভা করবে। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এতে আরও উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

 

আরও পড়ুন